ফাউন্ডেশন এর সঠিক শেড নির্বাচন করব কিভাবে?

ফাউন্ডেশন

মেকআপের প্রথম ধাপই হল ফাউন্ডেশন৷

মুশকিল হল, ফাউন্ডেশনের সঠিক শেড বেছে নিতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন, হয় শেড ত্বকের রঙের চেয়ে বেশি হালকা হয়ে যায়, অথবা বেশি গাঢ় হয়ে যায়৷ অনেক সময় ফাউন্ডেশন এপ্লাই করার পর ফেইস দেখতে অ্যাশি লাগে, অনেক সময় ফেইসে হলদেটে ভাব চলে আসে। এর মানে হলো আপনি আপনার সঠিক শেডটি বাছাই করতে পারেননি। তাহলে আসুন জেনে নেই কিভাবে আপনি আপনার ফাউন্ডেশনের সঠিক শেডটি নির্বাচন করবেন।

১। ত্বকের কমপ্লেক্সনের সাথে ফাউন্ডেশন ম্যাচিং করে নেয়াঃ আপনার কমপ্লেক্সন সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারনা থাকতে হবে। প্রথমে ফেইস থেকে সব মেকআপ রিমুভ করে নিন এবং ন্যাচারাল লাইট অর্থাৎ সানলাইটের নিচে একটা মিররে নিজের কমপ্লেক্সন দেখে নিন। মেকআপ এবং ইনডোর লাইটিং আমাদের স্কিনের কালারকে ম্যানিপুলেট করতে পারে। সানলাইট এবং মেকআপ ফ্রি অবস্থায় আমাদের স্কিনের রিয়েল কমপ্লেক্সন আমরা যাচাই করে নিতে পারি। এতে ফাউন্ডেশনের শেড বাছাই করতে সুবিধা হয়।

২। ফাউন্ডেশন নেক-এ সোয়াচ করে নেয়াঃ ফেইসে সানবার্ন ও সান ট্যানিং এর কারণে ফেইস শেড কিছুটা পরিবর্তনশীল। তাই ফেইসে ফাউন্ডেশন সোয়াচ করলে সঠিক শেড টা পাওয়া মুশকিল। ফেইসে অনেক সময় রেডনেস বা লাল আভা থাকার কারণে কিংবা একনি, মেলাসমা জাতীয় সমস্যা থাকার কারনে ফেইসের সঠিক শেড টা আমাদের চোখে ধরা পড়েনা।যেহেতু ফেইসের শেড আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা পরিবর্তনশীল তাই ফেইসের সাথে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন বাছাই করলে পরবর্তীতে তা ঘাড় ও গলার সাথে ম্যাচিং করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।নেক অথবা ঘাড়ের সাথে শেড ম্যাচ করে ফাউন্ডেশন বাছাই করলে অনায়াসে তা আপনার মুখের শেডের সাথে ম্যাচ হয়ে যাবে, এবং ফেইস ও নেকের শেডে কোনো তারতম্য থাকবেনা।

৩। ত্বকের আন্ডারটোন যাচাই করে নেয়াঃ ফাউন্ডেশন কিনার আগে আপনাকে আপনার স্কিন আন্ডারটোন সম্পর্কে জানতে হবে। আমাদের ত্বকের আন্ডারটোন তিন প্রকারের হয়ে থাকে- ওয়ার্ম আন্ডারটোন, কুল আন্ডারটোন ও নিউট্রাল আন্ডারটোন। স্কিন আন্ডারটোন বোঝার কিছু সহজ উপায় আছে-
ক. প্রাকৃতিক আলোতে আপনার হাতের শিরা দেখার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন আপনার হাতের শিরার রং নীল বা বেগুনি হয়, তাহলে আপনার আন্ডারটোন কুল। খ. যদি আপনার হাতের শিরার রং সবুজ ও অলিভ সবুজ রং এর হয় তাহলে আপনার স্কিন আন্ডারটোন ওয়ার্ম।
গ. যদি আপনি উপরে বর্ণিত একটি আন্ডারটোনের ভেতরেও না পরেন তাহলে আপনার আন্ডারটোন নিউট্রাল। তাছাড়া সহজ আর একটা উপায় হচ্ছে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়ান । যদি দেখেন আপনাকে সোনার গহনায় মানাচ্ছে বেশি তাহলে আপনি ওয়ার্ম আন্ডারটোনের, যদি দেখেন আপনাকে রূপা সিলভার গহনা বেশি মানাচ্ছে
তাহলে আপনি কুল আন্ডারটোনের । আর যদি দুটোতেই আপনাকে ভাল লাগে, সমান ভাবে মানায় তাহলে আপনি নিউট্রাল আন্ডারটোনের ।

ঘ.কভারেজ বাছাইঃ ফাউন্ডেশন কেনার সময় এটির কভারেজ দেখে কিনবেন । কেউ হালকা কভারেজ পছন্দ করে, কেউ ভারী কভারেজ পছন্দ করে, এটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ। তবে ভালো ফাউন্ডেশনের বৈশিষ্ট হল এটা সুন্দরভাবে সহজেই ত্বকের সাথে একদম মিশে যাবে । যাদের ত্বকে তেমন দাগছোপ নেই তারা হালকা বা মাঝারি কভারেজের ফাউন্ডেশন বেছে নিতে পারেন । আর যাদের ত্বকের দাগ আছে, আনইভেন স্কিনটোন তারা একটু ভারী কভারেজের ফাউন্ডেশন বেছে নেবেন।

ঙ. ফাউন্ডেশন মিক্সিং এন্ড ম্যাচিংঃ প্রত্যেকের ত্বকেই দুই থেকে তিন শেডের ফাউন্ডেশন মানায়। কখনও কখনও একাধিক শেড মিশিয়ে তবে পারফেক্ট টোনের খোঁজ মেলে। স্টোরের বিউটি অ্যাডভাইসরদের থেকে পরামর্শ নিন। কম্পিউটারের সাহায্যও নেওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *